ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পাকিস্তানের পথে জেডি ভ্যান্স

0
**পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা, ইরান সীমান্তে নজরদারি বাড়ালো আমেরিকা** **আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ! আমেরিকা ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান লয়েড অস্টিন সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরান সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং ইসলামাবাদকে কঠোর বার্তা দেওয়া।**

সফরের আগে লয়েড অস্টিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, "আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেই। তবে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা নিয়ে আমাদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে।" এই উদ্বেগ মূলত ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক অস্থিরতাকে ঘিরে। মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান যাতে কোনোভাবে পাকিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে মার্কিন স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত না হতে পারে, সেদিকে পাকিস্তান যেন কঠোর নজরদারি রাখে।

জানা গেছে, লয়েড অস্টিনের পাকিস্তান সফরের সময় ইরানের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমেরিকা চায় পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক। বিশেষ করে, ইরানের মদদপুষ্ট মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা যাতে পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে ইসলামাবাদের কাছে স্পষ্ট আশ্বাস চেয়েছে ওয়াশিংটন। এই বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের, এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান সমর্থিত কিছু গোষ্ঠী পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে।

এই ঘটনাগুলোই যেন মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রধানের সফরের মূল কারণ। পাকিস্তান সরকার মার্কিন উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। তবে, একইসঙ্গে পাকিস্তান তাদের জাতীয় স্বার্থের বিষয়টিও তুলে ধরেছে। যদিও সফরের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে এটি স্পষ্ট যে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকা কোনো প্রকার ছাড় দিতে নারাজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর একটি স্পষ্ট সংকেত দেয় যে, আমেরিকা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। ইরানকে একঘরে করার যে নীতি আমেরিকা গ্রহণ করেছে, তাতে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। তবে, পাকিস্তানের পক্ষে একাধারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top