**ঢাবি ছাত্রদল নেতা: পুলিশে সোপর্দ হওয়ার পর আজীবন বহিষ্কার, উত্তাল ছাত্র রাজনীতি!**
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া এবং পরবর্তীতে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ক্যাম্পাসে ও দেশের ছাত্র রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতা, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, সম্প্রতি দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে, যা দলের হাইকমান্ডের নজরে আসে।
প্রাথমিক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ওই নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) রাতে তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনার সত্যতা বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এই চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও কঠোর বার্তা। একইসাথে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ছাত্রদল আরও সতর্ক ও সক্রিয় হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এই বহিষ্কারাদেশ দেশের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের কাছেও একটি বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


