উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের জালে অধ্যাদেশ ১৩৩: খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে বড় বাধা
দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে বহুল আলোচিত অধ্যাদেশ ১৩৩ এর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এই অধ্যাদেশ অর্থঋণ আদালত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোয় উচ্চ আদালতের একতরফা স্থগিতাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করেছে, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা হয়েছিল এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, খেলাপি ঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং উচ্চ আদালতে কোনো পক্ষের বক্তব্য না শুনেই স্থগিতাদেশ জারির প্রবণতা রোধ করা। অধ্যাদেশ ১৩৩ অনুযায়ী, অর্থঋণ আদালত থেকে আসা কোনো মামলার ওপর উচ্চ আদালত কোনো স্থগিতাদেশ জারি করতে চাইলে, অবশ্যই অপর পক্ষকে (সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান) নোটিশ দিয়ে তাদের বক্তব্য শুনতে হবে। এটি ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ পুনরুদ্ধারে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। অধ্যাদেশটি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, প্রায়শই উচ্চ আদালত একতরফাভাবে স্থগিতাদেশ জারি করছেন, যা অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যাংকগুলোর বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ আটকে যাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের ঋণ ব্যবস্থাপনার খরচও বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের ব্যাংক খাত যখন খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই ধরনের বিচারিক জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও প্রতিকূল করে তুলছে।
এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে এই সমস্যা তুলে ধরেছে এবং অধ্যাদেশ ১৩৩ এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অর্থঋণ আদালতের মধ্যে একটি গভীর ও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া অত্যাবশ্যক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য খেলাপি ঋণ কমানো অপরিহার্য। অধ্যাদেশ ১৩৩ এর মতো আইনগুলো যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে ঋণখেলাপিরা আরও উৎসাহিত হবে এবং দেশের আর্থিক খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই অধ্যাদেশটির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের এই প্রবণতা বন্ধ করতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।


