এমপিদের ইচ্ছাপূরণে ৭৯৩২ কোটি টাকা বাড়লো ৫ প্রকল্পের ব্যয়: একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ মঙ্গলবার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে, যার মোট ব্যয় বেড়েছে ৭ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। এই বর্ধিত ব্যয়ের সিংহভাগই যুক্ত হয়েছে সংসদ সদস্যদের (এমপি) চাওয়া পূরণ করে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে। সংশোধিত এই প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, যা দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত বহন করে।
একনেকের এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী (ভারপ্রাপ্ত) ড. শামসুল আলম এবং পরিকল্পনা সচিব সত্যজিৎ কর্মকার। তারা জানান, পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো 'গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)।' প্রকল্পটি মূলত ২৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছিল এবং ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এমপিদের দেওয়া ২৫ হাজার নতুন স্কিম অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এর ব্যয় এক লাফে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৭ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদও ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ব্যাপক সম্প্রসারণ গ্রামীণ জনপদে যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট জোনের 'গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ' প্রকল্প। ৩ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি এখন ৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বৃহত্তর রংপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। এই প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়াও, চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত 'খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্পের ব্যয় ৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ হাজার ২১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা বন্দরনগরীর বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহীর নগরবাসীর জন্য 'সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন' প্রকল্পের ব্যয় ২ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ১৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং এর মেয়াদও ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নগর উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট শহরের নাগরিক সুবিধা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, প্রকল্পের আওতা বৃদ্ধি, এবং ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় বাড়ার কারণেই মূলত এই প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও মেয়াদ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করে জনগণের দোরগোড়ায় উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া। এই সংশোধনীগুলো দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।


