বিশেষ প্রতিবেদন: কুয়াকাটার সৈকতে ফের ইরাবতী ডলফিনের রহস্যময় মৃত্যু, প্রজাতি রক্ষায় প্রশ্ন!
আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগর উপকূলের জীববৈচিত্র্য। সম্প্রতি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে, বিশেষ করে গঙ্গামতির চরে, একটি মৃত ইরাবতী ডলফিনের (Irrawaddy Dolphin) মরদেহ ভেসে আসতে দেখা গেছে। শুক্রবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এটি গত দুই বছরে কুয়াকাটা উপকূলে পাওয়া পঞ্চম ইরাবতী ডলফিনের মরদেহ, যা সামুদ্রিক এই বিরল প্রজাতিটির অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। এর লেজের অংশ কাটা এবং মাথার দিকে জালে আটকে পড়ার মতো ক্ষত দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো জেলেদের জালে আটকা পড়ে বা আঘাতের কারণে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে। পরে মৃতদেহটি সৈকতে ভেসে আসে। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা (বনপ্রহরী) আবুল কালাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ডলফিনটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ওয়াইল্ডটিম (WILDTEAM) এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জনরা। এর আগে তারা মৃত ডলফিনটির দৈর্ঘ্য ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হবে।
ময়নাতদন্ত ও নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষে ডলফিনটির মৃতদেহ বালুচরে পুঁতে ফেলা হয়েছে। তবে এই ধরনের ধারাবাহিক মৃত্যু সামুদ্রিক পরিবেশবিদ ও গবেষকদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। ইরাবতী ডলফিন একটি বিপন্ন প্রজাতি এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "এটি খুবই দুঃখজনক যে বারবার ইরাবতী ডলফিনের মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা এবং জালে আটকা পড়া। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব মৎস্য আহরণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। না হলে এই বিরল প্রজাতিটি বিলুপ্তির পথে চলে যাবে।"

