বিশেষ ঘোষণা: দেশজুড়ে যখন বাংলা নববর্ষের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তার ঠিক আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় চৈত্রসংক্রান্তি উদযাপনের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে বিশেষ সাধারণ ছুটি। আগামী ১৩ এপ্রিল, সোমবার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় এই ছুটি কার্যকর হবে। মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বাংলাভাষীদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি, বিজু, সাংগ্রাই, বিষু উৎসবকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি এনেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আজ (০৬ এপ্রিল, ২০২৬) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ছুটির ঘোষণা আসে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শুধু পার্বত্য এই তিন জেলার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ছুটি প্রযোজ্য হবে। স্থানীয় বিভিন্ন দফতর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এর আওতায় আসবে। এই ছুটি জাতীয় পর্যায়ের ছুটির সাথে সমন্বিত নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলগুলোর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়া একটি বিশেষ পদক্ষেপ।
চৈত্রসংক্রান্তি বাঙালির বর্ষবিদায় এবং পাহাড়ী জনজাতির বর্ষবরণের এক বিশেষ দিন। এই দিনে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে বৈসাবি (বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু) উৎসবের প্রধান দিনগুলির একটি ১৩ এপ্রিল। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নানা আনন্দ-অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে। সরকারি ছুটি ঘোষণার ফলে তারা নির্বিঘ্নে এই উৎসবে অংশ নিতে পারবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরই পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকে। কিন্তু তার আগের দিন চৈত্রসংক্রান্তির জন্য পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি ওই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সরকারের সংবেদনশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। এই ছুটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর জন্য বৈসাবি ও পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আনন্দ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।


