হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের প্রাণহানি, শিশুরা বেশি আক্রান্ত
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের চিন্তা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র হাম ও এর জটিলতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি收集কৃত তথ্য অনুসারে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা না নেওয়া শিশুরাই এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে খুব উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। এর কয়েক দিন পরেই মুখের ভেতর ও গালে সাদা দাগ দেখা দেয়, যা পরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হাম নিজে থেকেই সেরে যায় বলে অনেকে ভুল করলেও এই রোগে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) এবং অন্ধত্বের মতো প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতাই মৃত্যুর的主要原因 হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতা ও ভিটামিন ‘এ’র অভাব আছে এমন শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল অভিভাবককে তাদের শিশুদের সম্পূর্ণ এবং সময়মতো এমআর ভ্যাকসিন (হাম-রুবেলা টিকা) দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এই টিকা শিশুকে হাম থেকে সুরক্ষা দিতে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি। যে সকল শিশুর টিকা দেওয়া বাকি আছে, তাদের নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক বা সরকারি হাসপাতালে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হামের疑似症例 যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেসব এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাキャンペーン জোরদার করা, মানুষকে সচেতন করতে প্রচার চালানো এবং হামের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শয্যা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
এই পরিস্থিতিতে শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুর মধ্যে হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই যেন তাকে অবহেলা না করে即刻 নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, সেদিকে特别 নজর দিতে বলা হয়েছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে হামে মৃত্যুর হার অনেকটাই কমানো সম্ভব।

