বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামছাড়া। বিশেষ করে, তেল, চাল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু পণ্যের সরবরাহ নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অনেকেই বাসাবাড়িতে তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস অতিরিক্ত পরিমাণে মজুত করছেন।
চলতি রমজান মাসেও বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার সরকারি প্রচেষ্টা থাকলেও তা তেমন কার্যকর হচ্ছে না। বরং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।
বর্তমানে সরু চালের দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মোটা চাল ৫২ টাকা। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১৫ টাকা বেশি। পাশাপাশি, সব ধরনের মসুর ডালের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি বড় মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা পূর্বে ছিল ৯০-১০০ টাকা। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা দরে। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোজার শুরু থেকেই বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক দোকানে আগের চেয়ে কম তেল পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, অনেক পরিবার এখন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছেন। বিশেষ করে, রমজানে ইফতারি তৈরিতে তেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এই মজুতের প্রবণতা আরও বেড়েছে।
তবে, এই অতিরিক্ত মজুত আগামী দিনে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাসাবাড়িতে অতিরিক্ত পরিমাণে দাহ্য পদার্থ, বিশেষ করে তেল মজুত রাখা অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অসাবধানতাবশত বা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে যেমন বাজারে পণ্যের অভাব, অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুতের ফলে অগ্নিঝুঁকি বৃদ্ধি – এই উভয় দিকই উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের উচিত বাজার তদারকি জোরদার করা, মজুতদারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে এবং অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত মজুত করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।


