মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তুঙ্গে। সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য 'বড় চমক' অপেক্ষা করছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ ঘটনা আঞ্চলিক সংকট আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গত ১ এপ্রিল দামেস্কে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে সন্দেহজনক ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সিনিয়র কমান্ডারসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এই হামলাকে ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে এবং এর 'কঠিন জবাব' দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তেহরান থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ভোগ করতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান—সবাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইসরায়েলকে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন। এর প্রতিক্রিয়ায় কী ধরনের 'সারপ্রাইজ' অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে।
এদিকে, এই হামলার দায় সরাসরি অস্বীকার না করলেও ইসরায়েল বরাবরই ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুততার সঙ্গে জানিয়েছে যে, তারা দামেস্কের হামলায় জড়িত ছিল না এবং ইরানকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে। তবে ইরান ওয়াশিংটনের এই বক্তব্যকে 'ভ্রান্ত' বলে উড়িয়ে দিয়েছে, কারণ তাদের বিশ্বাস, ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই 'বড় চমক' শুধুমাত্র মৌখিক হুমকি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এমনিতেই এই অঞ্চল অস্থিতিশীল, তার ওপর এমন একটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে। ইরান তার প্রতিশোধ কীভাবে নেবে, তা নিয়ে সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক পর্যবেক্ষণ করছেন। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে প্রক্সি আক্রমণ—সবকিছুই আলোচনার টেবিলে।
আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সকলেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, তেহরানের কঠোর মনোভাব আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই 'অপ্রত্যাশিত চমকের' জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।


