হাম-রুবেলা নির্মূলে বিশেষ টিকাদান: ৩.৪ কোটি শিশুর জন্য আজ থেকে মহাপ্রস্তুতি
দেশজুড়ে এক বিশাল জনস্বাস্থ্য অভিযান শুরু হলো আজ, ৫ এপ্রিল। হাম ও রুবেলা— এই দুটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ নির্মূলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে, যার লক্ষ্য দেশের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই ১৫ দিনের ক্যাম্পেইন, যা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে হামের টিকা ও রুবেলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অপরিহার্য। এই টিকাদান অভিযান দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম এবং রুবেলা উভয়ই অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। হাম নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস এবং অন্ধত্বের মতো গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, গর্ভবতী মায়েরা রুবেলায় আক্রান্ত হলে তাদের অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি, যা কনজেনিটাল রুবেলা সিন্ড্রোম (CRS) নামে পরিচিত, দেখা দিতে পারে। তাই শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে এই টিকাদান অত্যন্ত জরুরি।
দেশজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার টিকাদান কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, স্যাটেলাইট ক্লিনিক, ভ্রাম্যমাণ দল এবং এনজিও-চালিত কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শিশুরা বিনা মূল্যে এই টিকা নিতে পারবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ও স্বেচ্ছাসেবকরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে।
এর আগেও বাংলাদেশ হাম-রুবেলা নির্মূলে সফলভাবে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। সর্বশেষ ২০২০ সালে এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। তবে, হাম ও রুবেলাকে সম্পূর্ণভাবে দেশ থেকে বিতাড়িত করে একটি সুস্থ ও সুরক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে এই ১০ম বারের মতো আয়োজিত বিশেষ ক্যাম্পেইন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিভাবকদের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের সুস্থ ও সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে। এমনকি যদি আপনার শিশু আগেও এই টিকা নিয়ে থাকে, তাহলেও তাকে এই অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া উচিত, যা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি একটি হাম-রুবেলা মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, যেখানে প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।


