**এক্সক্লুসিভ: সুদহার কমাও, রপ্তানি বৈচিত্র্য আনো—অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর একটাই মন্ত্র**
অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান দৃঢ় করতে শিল্প খাত ও অর্থনীতিবিদরা একযোগে সুদহার কমানো এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের ওপর সর্বাত্মক জোর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, উচ্চ সুদহার শিল্পায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগ ও উৎপাদন উভয়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একইসাথে, রপ্তানি খাতকে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না রেখে নতুন নতুন পণ্য ও বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে অর্থনীতির ঝুঁকি কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এটি এখন কেবল একটি দাবি নয়, বরং দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অপরিহার্য কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার উৎপাদনশীল খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তারা যেমন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, তেমনি চলমান শিল্পগুলোও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। এই অবস্থা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বাধা দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো যদি সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনে, তাহলে শিল্প খাতে প্রাণ ফিরবে এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যা বিশ্ব অর্থনীতির যেকোনো ধাক্কায় দেশের রপ্তানি আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হালকা প্রকৌশল শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইসিটি পণ্যসহ সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতগুলোতে জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে একদিকে যেমন বাজার সম্প্রসারণ হবে, তেমনি অপ্রত্যাশিত বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও শিল্পপতিরা উল্লেখ করেন, নীতিগত সমর্থন ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সুদহার কমানোর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা নিশ্চিত করতে। তাঁদের মতে, কেবল তখনই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। এই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন তাঁরা।


